প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৪০ (রবিবার)
ঢাকা আলিয়ায় ফের উত্তেজনা, ককটেল উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশীবাজারে সরকারি আলিয়া মাদরাসায় ফের সংঘাতের আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৮ আগস্ট) মাদরাসার আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলসংলগ্ন মূল সড়কের পাশ থেকে একটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেটি নিষ্ক্রিয় করে।

পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি মাদরাসায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে মাদরাসায় প্রবেশের ঘোষণা দেওয়ায় সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ডিএমপির চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বকশীবাজার মোড়, আলিয়া মাদরাসা সড়ক এবং মাদরাসার গেটের সামনে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন। এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। একটি পক্ষ শনিবার মাদরাসায় প্রবেশের ঘোষণা দেওয়ায় সংঘর্ষের আশঙ্কা থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আলিয়া মাদরাসার একমাত্র আবাসিক হল আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র হাতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের একপর্যায়ে মাদরাসার সামনের সড়কে সাত থেকে আটটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। দুই পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মীকে দেশীয় অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে জড়াতেও দেখা যায়। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার সংঘর্ষের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মাদরাসা এলাকা ছেড়ে যান। পরে যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকশ নেতাকর্মী আলিয়া মাদরাসার হলে প্রবেশ করেন।

হলে প্রবেশের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হককে কয়েকজন মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের বের হয়ে যেতে বলা হয়। তারা বের হয়ে গেলে হলের ফটকে তালা দেওয়া হয়।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হলটি তালাবদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রশিবির অভিযোগ করেছে, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে।

সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির ঢাকা মহানগর পূর্বের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক দাউদ খান। তার দাবি, আহতদের মধ্যে ফুয়াদ নামে এক কর্মীর মাথায় ১২টি সেলাই লেগেছে এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন।

অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের ৩০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঢাকা আলিয়া মাদরাসা শাখার নেতা সাদ চৌধুরীর দাবি, আহতদের মধ্যে ছাত্রদল ও যুবদলের দুজনের অবস্থা গুরুতর।

এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি সেমিনারে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর আলিয়া মাদরাসা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সেদিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। এতে বকশীবাজারের ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নিলেও শুরুতে সদস্যসংখ্যা কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে যান।

চার দিন পর শনিবার শিবিরের পক্ষ থেকে আবার মাদরাসায় প্রবেশের ঘোষণা দেওয়ায় নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।