ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের ছাতকে নাশকতার অভিযোগে কালারুকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফতাব উদ্দিনকে (৫৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গেলো শুক্রবার রাতে উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাজার এলাকায় গোপন অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আফতাব উদ্দিন রাজাপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান ফখর উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, সরকারবিরোধী নাশকতার পরিকল্পনা ও তৎপরতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় পদ-পদবি ও রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে আফতাব উদ্দিন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি নলকূপ বরাদ্দের নামে অর্থ আদায়, থানার দালালি, চাঁদাবাজি, গ্রাম্য সালিশে জামানতের টাকা আত্মসাৎ, হামলা-মামলা এবং বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
গত ৩ ডিসেম্বর কালারুকা ইউনিয়নের রাজাপুর (মাঝপাড়া) এলাকায় কৃষক আব্দুল হকের কাছে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আব্দুল হক বাদী হয়ে আফতাব উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে গত ৯ ডিসেম্বর থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আফতাব উদ্দিন একসময় জাতীয় পার্টির যুবসংগঠন যুবসংহতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আমেরতল গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা বিল্লাল আহমদের পরিবারের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্প, টিআর-কাবিখা, টেন্ডার, টিসিবি ডিলারশিপ, জায়গা দখল, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন সালিশকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগেরও কোনো স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।
ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, সরকারবিরোধী গোপন নাশকতার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে আফতাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। শনিবার দুপুরে তাকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।