প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৫৭ (রবিবার)
মাদ্রাসা থেকে পালানোর চেষ্টায় কার্নিশে আটকেপড়া শিশু উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রাসা থেকে পালানোর নেশা যেন ১০ বছরের শিশু ইয়াসমিন আক্তার মিলির পিছু ছাড়ছে না। এবার ফেনী শহরের একটি ছয়তলা মাদ্রাসার জানালার কার্নিশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুলে থাকার এক রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ফেনী শহরের হাজারী রোডস্থ দারুন নাজাত মহিলা মাদ্রাসায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফেনী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের দুবাই প্রবাসী আবদুল শুক্কুরের মেয়ে ইয়াসমিন ওই মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির আবাসিক ছাত্রী। দীর্ঘ তিন দিনের ছুটি কাটিয়ে শনিবার সকালে স্বজনরা তাকে মাদ্রাসায় রেখে যাওয়ার পরপরই সে পালানোর পথ খুঁজতে থাকে। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ভবনের ছাদে উঠে যাওয়ার পর জানালার কার্নিশ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করলে সে সেখানে আটকা পড়ে। পাশের ভবনের লোকজন একটি শিশুকে ছয়তলার কার্নিশে বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন এবং তৎক্ষণাৎ ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

ফেনী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মামুন মিয়া জানান, দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কারিগরি কৌশল অবলম্বন করে শিশুটিকে নিরাপদে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ জানান, শিশুটির সাথে কথা বলে জানা গেছে সে মাদ্রাসায় পড়তে অনিচ্ছুক ছিল এবং সেখান থেকে মুক্তির উপায় হিসেবেই এই বিপজ্জনক পথ বেছে নেয়।

মাদ্রাসার মুহতামিম আবদুল আজিজ জানান, পরিবারের চাপে জানুয়ারিতে তাকে এখানে ভর্তি করা হলেও সে মানিয়ে নিতে পারছিল না। এর আগেও সে দুবার পালানোর চেষ্টা করেছে। ঘটনার পর অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও পরিবারের উপস্থিতিতে ইয়াসমিনকে মাদ্রাসা থেকে ছাড়পত্র দিয়ে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইয়াসমিনের পরিবার জানায়, গ্রামের মাদ্রাসায় অবহেলা করায় শহরের এই মাদ্রাসায় তাকে ভর্তি করা হয়েছিল, কিন্তু তার পড়াশোনায় অনীহার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।