প্রকাশিত : ০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:০৮ (সোমবার)
সাদপন্থিদের ইজতেমা বন্ধসহ তারেক রহমানের কাছে হেফাজতের ৯ দাবি

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাদপন্থিদের ইজতেমা বন্ধ, ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম অংশ নেন।

হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ সাজেদুর রহমান স্বাক্ষরিত দাবিনামায় মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে জাতীয় সংসদে কঠোর আইন পাসের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দাবিনামায় ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।

তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার কথা উল্লেখ করে মাওলানা সাদের বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থিদের কোনো ধরনের ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে হেফাজত।

শিক্ষাব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়ে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে সরকারি চাকরিতে ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে- কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা, হিজবুত তাওহিদ নিষিদ্ধ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে মিশনারি তৎপরতা বন্ধ করা।

বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেলিকপ্টারে করে বাবুনগর মাদ্রাসায় পৌঁছালে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তাঁকে স্বাগত জানান। পরে কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মতবিনিময়। সভায় দেশের ধর্মীয় ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় আলেম সমাজকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অংশীদার করার পাশাপাশি বিগত সরকারের আমলে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের জোরালো দাবিও জানায় হেফাজতে ইসলাম।