ছবি: সংগৃহীত
ভারতের বেঙ্গালুরুতে অবৈধ বিদেশি নাগরিক শনাক্তকরণের নামে ব্যাপক পুলিশি অভিযানের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযানে নারী ও শিশুসহ শতাধিক পরিযায়ী শ্রমিককে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার ও শ্রমিক সংগঠন। তবে পুলিশের দাবি, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১০৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত ও আটক করা হয়েছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ এবং অল ইন্ডিয়া সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব ট্রেড ইউনিয়নসসহ বেশ কিছু সংগঠন দাবি করেছে, গত শনিবার ভোরে বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন বস্তি ও শ্রমিক কলোনিতে অতর্কিত হানা দেয় পুলিশ। পরিচয়পত্র যাচাইয়ের নামে ভরপুর, বন্দেপালিয়া ও হেক্সাগেগুড়ির মতো এলাকাগুলো থেকে শত শত মানুষকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পুলিশি তল্লাশির সময় সাধারণ শ্রমিকদের লাঠিপেটা করা এবং তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে যোগাযোগের তথ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।
আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো আরও দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক নম্বরে কথা বলার অপরাধে অনেক ভারতীয় নাগরিককেও সন্দেহভাজন তালিকায় ফেলে হয়রানি করা হচ্ছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার যথাযথ নিয়ম না মেনেই এই গণ-গ্রেপ্তার চালানো হয়েছে বলে তারা অভিযোগে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে, বেঙ্গালুরু পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ৩ হাজার মানুষের নথিপত্র যাচাই শেষে ১০৫ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে যারা কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই সেখানে বসবাস করছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।