প্রকাশিত : ১০ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৪৯ (সোমবার)
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে আজও ঝরলো ২ প্রাণ: চার দিনে ১৩ জনের মৃ/ত্যু

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাড়ছে প্রাণহানি। সর্বশেষ সোমবার (১০ আগস্ট) পৃথক দুই দুর্ঘটনায় আরও ২ জন নিহত হয়েছেন। এতে গত চার দিনে এই মহাসড়কে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার এলাকায় কুশিয়ারা পেট্রোল পাম্পের সামনে একটি বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের হেলপার নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিলেটগামী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে একই দিন সকালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বড়চর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পিকআপ ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মশহুদ আহাম্মদ (৪০) নামে এক সবজি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার কারখানা গ্রামের সুফি মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পিকআপটি কাঁচামাল আনতে যাওয়ার পথে একটি যাত্রীবাহী বাস রং সাইডে এসে পিকআপটির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে মশহুদ আহাম্মদ ছিটকে সড়কে পড়ে গেলে বাসটি তার ওপর দিয়ে চলে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় পিকআপের চালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

শেরপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও পিকআপ জব্দ করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বেজুরা সেতু এলাকায় তেলবাহী লরি, বালুবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিপন মিয়া (২৭) ও আবুল খায়ের (৫০) নিহত হন।

আর শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপুর এলাকায় দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ১৬ জন।

ওই দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ক্রমাগত এসব দুর্ঘটনায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।