প্রকাশিত : ১১ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৪৫ (বুধবার)
জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য বিমান ভাড়া অর্ধেক

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই বিপ্লবের বীর ও শহীদ পরিবারের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বড় ধরনের সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সকল হোটেল-মোটেল ও সেবাগুলোতে এখন থেকে ৩৬ শতাংশ ছাড় পাবেন জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়াও তাদের দেশ-বিদেশে যাতায়াতের সুবিধার্থে বিমান ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর পর্যটন ভবনে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা ও আলোচনা’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এসব তথ্য জানান।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ কোনো নির্দিষ্ট দিনে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদের মূল্যায়ন এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। শহীদ পরিবারের সদস্যদের জীবনযাপন এবং আহতদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে বিমান ভাড়ায় অর্ধেক ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ভ্রমণের পথ সুগম করার কাজ চলছে।

ইতোমধ্যে সরকারি চাকরির সার্কুলার প্রদান করা হয়েছে, যেখানে যোগ্যতা অনুযায়ী জুলাই যোদ্ধাদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত সরকারি বিভিন্ন স্তরে জুলাইয়ে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ কোটা বা চাকরির সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংস্থাগুলোর চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজ নিজ উদ্যোগে দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে এই বীরদের অগ্রাধিকার দিতে পারেন। এতে রাষ্ট্র তাদের পাশে আছে-এই বোধটি শহীদ পরিবারগুলোর মাঝে সঞ্চারিত হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি। তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়; বরং বছরের পর বছর জমে থাকা ক্ষোভ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের বৃহত্তর ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর পর দেশের সাধারণ মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখনই ফ্যাসিবাদের পতন নিশ্চিত হয়।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তার এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে ১০ জন জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য তাদের সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।