ছবি: সংগৃহীত
সিলেট মহানগরীর রায়নগর এলাকায় চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বৃদ্ধ দম্পতি আব্দুস সাত্তার (৮২) ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬)। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে রায়নগর এলাকা থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ী আবাসিক এলাকার ‘মিতালি ১১১’ নম্বর বাসায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত বাবুল মিয়া পেশায় রংমিস্ত্রি ও কসাই। মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। প্রায় ১৫-২০ দিন আগে ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন সকালে বাবুল একটি ছুরি নিয়ে ওই বাসায় গেলে তাহমিনা তাকে ভেতরে ঢুকতে দেন। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুল তাহমিনাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। তাকে বাঁচাতে সুরাইয়া বেগম ও পরে বাসার মালিক আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে ঘাতক বাবুল তাদের দুজনকে একইভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা বাসার দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনটি রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। পুলিশ কমিশনার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
গ্রেপ্তারকৃত বাবুল মিয়ার স্থায়ী বাড়ি চাঁদপুর হলেও সে বর্তমানে রায়নগর এলাকায় আক্তার মিয়ার কলোনিতে বসবাস করছিল। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো সিলেটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।