সিলেট মহানগরের রায়নগর আবাসিক এলাকায় সংঘটিত আলোচিত ত্রিমুখী হত্যাকাণ্ডে নিহত প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তারের চার সন্তানের সবাই প্রবাসে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে এবং দুই ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুই মেয়ে আজ বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছাবেন। স্বজনদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল সাড়ে ৯টায় অবতরণের কথা থাকলেও বিলম্বের কারণে দুপুর দেড়টায় সিলেটে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অপরদিকে, নিহতের ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা আরিফ ইফতেখার আগামীকাল শুক্রবার দেশে আসবেন।
এদিকে, ঘাতকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বর্তমানে নিহত দম্পতির মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আজই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে। প্রবাসী সন্তানরা দেশে পৌঁছালে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগরের মিতালী এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (২৫) প্রেমিক বাবুল মিয়া (নূর মিয়ার ছেলে) একাই তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।
পুলিশ জানায়, চার সন্তান বিদেশে থাকলেও প্রবীণ এই দম্পতি দেশেই বসবাস করতেন। তাদের দেখাশোনার জন্য গৃহকর্মী তাহমিনাকে রাখা হয়েছিল। ঘটনার দিন সকালে তাহমিনার সম্মতিতে তার প্রেমিক বাবুল বাসায় প্রবেশ করে।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, বাসায় প্রবেশের পর বাবুল তাহমিনাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি না হওয়ায় দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাবুল সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
তাহমিনার চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগমকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পরে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে এগিয়ে আসা গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকেও একইভাবে হত্যা করে ঘাতক।
হত্যাকাণ্ড শেষে ভেতর থেকে দরজা লক করে ব্যালকনি দিয়ে পালিয়ে যায় বাবুল। পরে বাসার পাশের একটি জঙ্গলাকীর্ণ মাঠে ব্যবহৃত ছুরিটি ফেলে দেয়।
কোতোয়ালি থানার ওসি মাইনুল জাকির জানান, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে স্থানীয়দের সহায়তায় সন্দেহভাজন বাবুলকে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর সে এলাকা ত্যাগ না করে রায়নগর রাজবাড়ির আক্তার মিয়ার কলোনিতে অবস্থান করছিল। সাদাপোশাকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটকের সময় তার গায়ে লাল রঙের টি-শার্ট ছিল এবং হাতে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহতের মেয়েদের সাথে কথা হয়েছে তারা দেশে আসছেন।
সন্তানদের অনুপস্থিতিতে যাকে বিশ্বাস করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই গৃহকর্মীর সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই প্রাণ হারাতে হলো এই প্রবীণ দম্পতিকে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে পুরো সিলেট নগরজুড়ে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ঘাতক বাবুল মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।