প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২২ (শনিবার)
সাবাহ-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে নতুন সম্ভাবনা

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই পক্ষের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) সাবাহর মুখ্যমন্ত্রী দাতুক সেরি পাংলিমা হাজি হাজিজি হাজি নূর এর সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাতের পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার নয়, বরং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সাবাহ রাজ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধির সঙ্গে।

সাক্ষাৎ শেষে সাবাহ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার সুযোগকে তারা স্বাগত জানায়। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সাবাহ সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ও সাবাহর মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি এমন কিছু নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান করা প্রয়োজন, যা উভয় পক্ষের জন্য অধিক সুফল বয়ে আনতে পারে।

সৌজন্য সাক্ষাতে সাবাহর প্রধানমন্ত্রী বিভাগের উপমন্ত্রী দাতুক লো সু ফুই, মুখ্যমন্ত্রীর সহকারী মন্ত্রী দাতুক সিজার ম্যান্ডেলা মালাকুন উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন হাইকমিশনের রাজনৈতিক কাউন্সেলর প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এবং কমার্শিয়াল ফার্স্ট সেক্রেটারি প্রণব কুমার ঘোষ।

সাবাহ মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজ্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পর্যটন সম্ভাবনা, কৃষি, মৎস্য, শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে রাজ্যটির অর্থনীতিতে বিভিন্ন খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এসব খাতকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে পর্যটন খাতে দুই পক্ষের সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সাবাহর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে আরও পরিচিত করে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশেও মালয়েশিয়ার পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। ফলে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রয়েছে। এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে সাবাহ রাজ্য সরকার ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাবাহর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।