প্রকাশিত : ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৩৮ (শনিবার)
সিলেটে ৩ খু/নের প্রকৃত অপরাধী চিহ্নিতের নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

সিলেট নগরের রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকায় একই পরিবারের দুই সদস্যসহ তিনজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী এবং সিলেট-১ আসনের সাংসদ খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসাটি পরিদর্শনকালে তিনি এ নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি নিহত দম্পতির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানান।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করা শুধু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধেও তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সিলেট ও দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করা জরুরি।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর  স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৮) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে মামলা করেন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে সম্পর্ক কিংবা কথাকাটাকাটির জেরে বাবুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনজনকে হত্যা করেছেন।

তবে পুলিশের এ বক্তব্য নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে নিহতদের পরিবার। তাদের দাবি, আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের কোনো সম্পর্ক ছিল বলেও তারা বিশ্বাস করেন না।

নিহতদের মেয়ে সেলিনা সুলতানার দায়ের করা মামলায়ও বাবুল মিয়ার নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর দাবি, একজনের পক্ষে একসঙ্গে তিনজনকে হত্যা করা সম্ভব নয়। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারেন। 

গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, কেসটাকে অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য কাজের মেয়ের বিষয়টি বলা হচ্ছে।

পরিবারের এসব অভিযোগ ও সন্দেহকে সামনে রেখে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এতে কারা জড়িত, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

স্থানীয় বাসিন্দারাও গৃহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের প্রকৃত কারণ এবং এতে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা বের করতে গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।