প্রকাশিত : ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ২০:২২ (রবিবার)
সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক রুটে ট্রাক-পিকআপ শ্রমিকদের কর্মবিরতি

ছবি: সংগৃহীত

লামাকাজী এম এ খান সেতুসহ সিলেটের সব সেতু থেকে টোল আদায় বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও সিলেট-ছাতক রুটে ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) ভোর ৬টা থেকে সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে এ কর্মবিরতি শুরু হয়। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

এর আগে শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় নগরীর প্যারাইরচক ট্রাক টার্মিনালে সংগঠনের কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিলেটের বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক শ্রমিক অংশ নেন।

সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাছুম আহমদ লস্করের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন, সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শ্রী আবু সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাছুম আহমদ লস্করের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি নাজির আহমদ স্বপন, ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি ইফতেখার আহমদ সোহেল, সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ জুবের, ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ খান সাদেক, ট্রাক মালিক নেতা আক্তার রশীদ চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, কয়ছর আহমদ জালালী, শাহজাহান আহমদ, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি কাউছার আহমদ, সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, সহ-সম্পাদক মাহবুব মিয়া মবু, সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মত্তছির আলী, শ্রমিক নেতা আহমদ আলী স্বপন, আব্দুল মতিন, সাইফুল আলম, মাছুম আহমদ, জুলহাস আহমদ বাদল, কামাল হোসেন, আব্দুল জলিল, আব্দুল করিম, ইলিয়াছ আহমদ, আলেক আহমদ সোহেল, জোমায়েল আহমদ জুমেল, আইন উদ্দিন, ফুল মিয়া, আফরোজ আলী, ফারুক আহমদ, সাইদুর রহমান সাইদুর, রাজু মিয়া, প্রবীণ শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম, ইউসুফ মিয়া ও তুলা মিয়া প্রমূখ।

সভায় শ্রমিক নেতারা বলেন, পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি বহাল রাখা হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ছাতক পৌরসভাসহ বিভিন্ন পৌরসভার নামে পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ, লামাকাজী এম এ খান সেতুসহ সিলেটের সব সেতু থেকে টোল আদায় বন্ধ, মোটর সংযুক্ত ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িতে পণ্য পরিবহন বন্ধ, গাড়ির কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে পুলিশি হয়রানি বন্ধ এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকারের বিরুদ্ধে অনলাইনে মিথ্যা ও অপপ্রচার বন্ধ করা।

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন পৌরসভার নামে পরিবহন শ্রমিকদের কাছ থেকে নানা উপায়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, লামাকাজী এম এ খান সেতুসহ বিভিন্ন সেতুর টোল পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি করছে। এর চাপ শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের ওপর পড়ছে। তাই সিলেটের সব সেতু থেকে টোল আদায় বন্ধ করতে হবে।

মোটর সংযুক্ত ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িতে পণ্য পরিবহনের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। তাদের দাবি, এসব যানবাহনে পণ্য পরিবহনের কারণে ট্রাক ও পিকআপ শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছেন এবং পরিবহন খাতে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।

গাড়ির কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে পুলিশি হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। নেতারা বলেন, গাড়ির কাগজপত্র নিয়মিত যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তাদের আপত্তি নেই। তবে যাচাইয়ের নামে হয়রানি বা অযথা সময়ক্ষেপণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ ছাড়া সংগঠনের সভাপতি আবু সরকারের বিরুদ্ধে অনলাইনে মিথ্যা ও অপপ্রচার বন্ধের দাবি জানানো হয় সভায়। নেতাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

কর্মবিরতি শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের জন্য সাংগঠনিক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শ্রমিক ইউনিয়ন। একই সঙ্গে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও সিলেট-ছাতক রুটের সব ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিককে কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শ্রমিক ইউনিয়নের ঘোষণা অনুযায়ী, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সিলেট-সুনামগঞ্জ ও সিলেট-ছাতক রুটে ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যানের এই কর্মবিরতি অনির্দিষ্টকাল চলবে।