ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় পাল্টা গুলিতে জসিম (২৪) নামে এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ জসিমসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের তিন সদস্যও আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা সোয়া তিনটার দিকে ফতুল্লার ইসদাইর রেলস্টেশনের পাশে আরবান স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ইসদাইর এলাকার রেজ্জাক বাহিনীর প্রধান রেজ্জাকের ছেলে জসিম এবং একই এলাকার আবদুস সালামের ছেলে মোহন (২৩)। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা দুজনই মাদক ব্যবসা ও অস্ত্রের সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইসদাইর রেলস্টেশনের পাশে আরবান স্কুলের সামনে সাত থেকে আটজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় ফতুল্লা থানা-পুলিশের একটি দল। এ সময় অস্ত্রধারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছোড়েন।
পরে আত্মরক্ষার্থে ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিক ও নন্দন চন্দ্র সরকার পাল্টা আটটি গুলি ছোড়েন। একপর্যায়ে জসিমের ঊরুতে গুলি লাগে। পরে তাঁকে আটক করা হয়। একই সময় মোহনকেও পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে আহত তিন পুলিশ সদস্য ও গুলিবিদ্ধ জসিমকে শহরের খানপুরের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছোড়া হলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে এক অস্ত্রধারী ঊরুতে গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, এর আগে গত ২ এপ্রিল ইসদাইরের ৫২ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫৩টি গুলিসহ রেজ্জাক বাহিনীর প্রধান রেজ্জাক ও তাঁর ছেলে ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রেজ্জাকের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ ১২টি মামলা রয়েছে।
ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা করে। বর্তমানে রেজ্জাক জামিনে থাকলেও তাঁর ছেলে ওয়াসিম কারাগারে রয়েছেন।