প্রকাশিত : ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৪৯ (রবিবার)
পুরুষ হিসেবে শনাক্ত দুই নারী অ্যাথলেট আজীবন নিষিদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। লিঙ্গ নির্ধারণী পরীক্ষায় যৌন বিকাশজনিত বৈচিত্র্য (XY DSD) শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসা প্রতিবেদন ও বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে প্রতিযোগিতার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও নৌবাহিনীর অ্যাথলেট কবিতা রায়কে। একই সঙ্গে তাদের অর্জিত সব রেকর্ড ও পদক বাতিল করা হয়েছে।

ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে, জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়ের লিঙ্গ নির্ধারণ নিয়ে তাদের নিজ নিজ সংস্থার অভিযোগের পর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অ্যাথলেটদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা গত ১১ মে শেষ হয়। পরে ১৬ মে মেডিক্যাল বোর্ড তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে জমা দেয়।

মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ বছর বয়সী জান্নাত বেগম ও ১৯ বছর বয়সী কবিতা রায়ের ক্ষেত্রে যৌন বিকাশজনিত বৈচিত্র্য (XY DSD—Differences of Sex Development) শনাক্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে উভয়ের পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস এবং ইনগুইনাল ক্যানেলে উভয় গোনাড থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সীমার চেয়ে উল্লেখযোগ্য বেশি মাত্রা পাওয়া গেছে। জান্নাত বেগমের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ছিল ১৯.৬৬ nmol/L এবং কবিতা রায়ের ১৬.৫০ nmol/L। বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ২.৫ nmol/L-এর নিচে থাকতে হয়। মেডিক্যাল প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দুজনই এ শর্ত পূরণ করেননি।

ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি জানিয়েছে, চিকিৎসা প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্য এবং বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের বিধিমালা বিবেচনায় নিয়ে জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে নারী অ্যাথলেট হিসেবে প্রতিযোগিতা থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জান্নাত বেগমের জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রোতে অর্জিত দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ আটটি সোনা, একটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে কবিতা রায়ের ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪×১০০ মিটার ইভেন্টে অর্জিত একটি সোনা, একটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে। এসব ইভেন্টের পদক তালিকায় পরবর্তী অবস্থানে থাকা অ্যাথলেটদের মধ্যে বিধি অনুযায়ী পদক পুনর্বণ্টন করা হবে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের এ সিদ্ধান্ত দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে দুই অ্যাথলেটের বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন ও ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের বাইরে তাদের ব্যক্তিগত অবস্থান বা আপিলের বিষয়ে দেওয়া তথ্যে কিছু উল্লেখ নেই।