আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার শরিফের ৩টি বিশালাকার দানবাক্স ও ৩টি মানতের ডেগ খুলে পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। সেই সাথে দেশি-বিদেশি মুদ্রার বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ এবং সোনা-রূপার অলঙ্কারও পাওয়া গেছে। সিলগালা অবস্থা থেকে বাক্স ও ডেগগুলো খোলার পর সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে গণনার কাজ সম্পন্ন করে এই বিবরণ প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত হিসাব বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দানবাক্সগুলো থেকে সর্বমোট ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা নগদ টাকা পাওয়া গেছে। মূল্যবান ধাতুর মধ্যে সংগৃহীত দানের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে ২ ভরি ১ রতি সোনা এবং ১ ভরি ২ আনা রূপা। প্রশাসনিক তদারকিতে এসব অর্থ ও অলঙ্কার যথাযথ প্রক্রিয়ায় মাজার তহবিলে জমা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রচলিত মুদ্রার পাশাপাশি বিশ্বের ১৯টি দেশের নোট ও মুদ্রা পাওয়া গেছে এবার। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ৩ হাজার ২৪৮ রুপি উদ্ধার করা হয়েছে। ইউরোপের মুদ্রার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ৩১ পাউন্ড ১১ পয়সা এবং দশমিক ৪০ ইউরো। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ভক্তদের দেওয়া মুদ্রার মধ্যে সৌদি আরবের ৭০ রিয়াল, কাতারের ১১২ রিয়াল ৫০ পয়সা, আরব আমিরাতের ৬৪ দিরহাম ২২ সেন্ট, ওমানের ১ হাজার বায়সা বা ১ রিয়াল এবং বাহরাইনের ১ পয়সা রয়েছে।
দূর প্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর মুদ্রার প্রতিনিধিত্বে দেখা গেছে ৪ মার্কিন ডলার, ১ কানাডিয়ান ডলার, মালয়েশিয়ার ৮৩ রিঙ্গিত, জাপানের ১ হাজার ইয়েন, ভিয়েতনামের ১ হাজার ডং এবং নেপালের ১০০ রুপি। এ ছাড়া অন্যান্য দেশের মুদ্রার মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের ৬০ রুপি ৫০ পয়সা, ইরাকের ২৫০ দিনার, তুরস্কের ৯০ লিরা এবং লেবানন ও মিসরের ১০ পাউন্ড করে।
নগদ টাকা, সোনা-রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি মাজারের উদ্দেশ্যে ভক্তদের আনা নজরানার তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিপুল সংখ্যক গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগি রয়েছে, যার সঠিক হিসাব ও ব্যবস্থাপনা মাজার কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তাঁর নির্দেশে ১৮ জুন ডেগে সিলগালা এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হলে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপড়েন দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে ‘রুটিন বদলি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
নতুন দানবাক্স স্থাপনের চার দিন পর ২২ জুন প্রথম দফায় তা খুলে গণনা করা হয়। এতে নগদ ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। প্রথম গণনার ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হয়। তখন পাওয়া যায় নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ সময় একাধিক দেশের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রীও পাওয়া যায়।