সিলেট জুড়ে মারাত্মক আকার ধারণ করছে হামের ভাইরাস। দিন দিন বিভাগের সার্বিক হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মোড় নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে এক শিশুর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১৯ জনের দেহে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া হামের লক্ষণ ও সন্দেহ নিয়ে গত এক দিনেই বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১২৯ জন রোগী। সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে ১৬ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুটির নাম তুহা। তার বয়স ৪ বছর। সে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জালাল গ্রামের বাসিন্দা। শিশুটির মৃত্যু হয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্বাস্থ্য বিভাগের জেলা-ভিত্তিক হিসাবেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে সিলেট জেলায় ৪৭ জন, হবিগঞ্জে ১৭ জন, মৌলভীবাজারে ১২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৫ জনে। জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সুনামগঞ্জে- ৩৫৭ জন। এ ছাড়া সিলেটে ৩১১, মৌলভীবাজারে ১৫৪ এবং হবিগঞ্জে ১৫৩ জনের দেহে রোগটি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জের দুজন রোগীর শরীরে হামের পাশাপাশি রুবেলা ভাইরাসের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।
দৈনিক স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে ১২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের মধ্যে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭০ জন এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩৪ জন রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২১ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২ জন এবং রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে পুরো বিভাগে সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে মোট ৩০৯ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে কেবল সিলেট নগরের দুটি বড় হাসপাতাল- শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১২২ জন এবং ওসমানী মেডিকেলে ১০৯ জন রোগী ভর্তি আছেন।
এ ছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদরে ৩৬ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদরে ১৪ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদরে ৩ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজে ৬ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেলে ১৭ জন এবং মাউন্ট এডোরা ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। এটি ‘মরবিলিভাইরাস’ গোত্রের একধরনের ভাইরাসের সংক্রমণে হয়ে থাকে। ভাইরাসটিতে বেশিরভাগ শিশু মৃত্যুর ঘটনা ও আশঙ্কাজনক হারে রোগী বাড়তে থাকায় সিলেট জুড়ে স্বাস্থ্য সতর্কতার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।