প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৫৭ (বুধবার)
সিলেটে শাহজালাল জামেয়া নাজিরেরগাঁওয়ে শিক্ষকের বিদায়ী সংবর্ধনা

ছবি: সংগৃহীত

শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা নাজিরেরগাঁও শাখা সিলেটের ইনচার্জ মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার বলেছেন, শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর এবং শিক্ষার্থীদের প্রেরণার বাতিঘর। মা-বাবার পাশাপাশি শিক্ষকরা কোমলমতি শিশু-কিশোরদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও মূল্যবোধে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সঠিক দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণার মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থীদের জীবনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেন।

তিনি বলেন, আদর্শ শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। স্নেহ, মমতা ও আন্তরিক শাসনের মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনার বিকাশে সহায়তা করেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসা নাজিরেরগাঁও শাখার সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মো. ওবায়দুল হকের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামেয়ার তামাদ্দুনিক কমিটির আহ্বায়ক খোরশেদ আলম মহসিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষক মো. ওবায়দুল হক বক্তব্য দেন। তিনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি জার্মানি যাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষক মাওলানা হানীফ হোসাইন, সিদ্দিকুর রহমান, শেখ মো. ইউনুস আলী, তানভীর হোসাইন, আজিজুর রহমান, হাফিজ মেহেদী হাসান, মাওলানা আব্দুল খালিক, হাফিজ ইমরান আহমদ, মাওলানা আমীর হোসাইন, মাওলানা কায়েস আহমদ, মাওলানা হোসাইন আহমদ ও হাফিজ সাইদুজ্জামান।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ছাত্র সংসদের ভিপি হাফিজ ফাহাদ আহমদ, জিএস আব্দুর রাজ্জাক সৈয়দ, এজিএস ফুয়াদ আল রাব্বি, সাহিত্য সম্পাদক জাহেদ উদ্দীন মাহদী, ছাত্রী সংসদের ভিপি রাফা আঞ্জুম, জিএস ফেরদৌসী জান্নাত নওশীন, এজিএস তাহসিন জান্নাত বুশরা এবং প্রচার ও পাঠাগার সম্পাদিকা তাওহিদা আক্তার।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিদায়ী শিক্ষক মো. ওবায়দুল হকের হাতে ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

বিদায়ী শিক্ষক মো. ওবায়দুল হক তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার পরপরই তিনি জামেয়ায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তিন বছরের বেশি সময় এখানে কাটিয়ে প্রিয় সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শ্রদ্ধা, অকৃত্রিম ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের বড় হওয়ার স্বপ্ন হৃদয়ে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।’ তিনি শিক্ষকতার ক্ষেত্রে অতুলনীয় আদর্শ রেখে গেছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাঁর আদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারলে উপকৃত হবেন। শিক্ষকরা যদি কথা ও কাজে নিজেদের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা তা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিধাহীনভাবে সামনে এগিয়ে যাবে। এতে মেধা ও যোগ্যতার বিকাশের পাশাপাশি নৈতিকতার দিক থেকেও তারা শীর্ষে অবস্থান করবে।