প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ২১:১১ (বুধবার)
ভূমধ্যসাগরে গ্রিসগামী নৌকা ট্র্যাজেডি: সুনামগঞ্জের ৩ যুবক নিখোঁজ

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর হয়ে লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে এক ভয়াবহ নৌকা ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার তিন যুবক। ১১ দিন ধরে সাগরে খাবার ও পানিশূন্য অবস্থায় ভেসে থাকার পর তারা নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন।

নিখোঁজ তিন যুবক হলেন- মরানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রামের জুয়েল আহমদ টিপু (২৫), গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহ (২৮) এবং হিজলা গ্রামের ইউসুফ আলী (২০)।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট ৪২ জন যাত্রী নিয়ে লিবিয়া থেকে একটি রাবার নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেয়। যাত্রীদের মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। মাঝসমুদ্রে নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে শুরু হয় চরম সংকট। প্রখর রোদ আর খাদ্য-পানির অভাবে টানা ১১ দিন ভাসমান অবস্থায় ১১ জন প্রাণ হারান, যাদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ১৩ আগস্ট স্রোতের টানে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছালে ৩০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে জগন্নাথপুরের এই তিন যুবকের কোনো খোঁজ মেলেনি।

নিখোঁজ ইউসুফ আলীর চাচা ও ইউপি সদস্য সাদিক আলম জানান, পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে ১৩ লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দালালের মাধ্যমে ইউসুফকে পাঠানো হয়েছিল। একইভাবে বাগময়না গ্রামের টিপু ও গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহও দালাল চক্রের মাধ্যমে বিপুল অংকের চুক্তিতে লিবিয়া গিয়েছিলেন।

নিখোঁজদের স্বজনরা এখন শোকাতুর, তবে তারা এখনও আশা ছাড়েননি যে তাদের সন্তানরা বেঁচে আছেন।

এই বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের বিষয়ে পুলিশকে এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়লেও সরকারিভাবে নিখোঁজের তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অবৈধ অভিবাসনের এই ভয়াবহ পরিণতি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।