প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ২২:২৭ (বুধবার)
রাজনগরে শিক্ষিকার রাজকীয় বিদায়

মৌলভীবাজারের রাজনগরে এক অনন্য ও রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা পেলেন দীর্ঘ ৩৯ বছরের অভিজ্ঞ শিক্ষিকা বেলা রানী দেব। কর্মজীবনের শেষ দিনে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাকে তার নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়।

১৯৮৭ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে রাজনগর উপজেলার বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন বেলা রানী দেব। দীর্ঘ ৩৯ বছর একই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পর সোমবার ছিল তার শেষ কর্মদিবস।

বিদায় বেলায় স্মৃতিকাতর এই শিক্ষিকা বলেন, 'যাদের প্রথমে পড়িয়েছি তারা আমাকে দিদি মণি ডাকত। এরপর তাদের সন্তানদের কাছে হয়েছি পিসি মণি এবং শেষ পর্যন্ত তাদের নাতি-নাতনিদের কাছে আমি হয়েছি নানি মণি। এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি ধুলিকণার সঙ্গে আমার স্মৃতি জড়িয়ে আছে।'

বিদায় অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রাক্তন ও প্রবাসী শিক্ষার্থীরা মিলে বিশেষ আয়োজন করেন। প্রথমে তাকে একটি রকিং চেয়ারে বসিয়ে শূন্যে ভাসিয়ে সম্মান জানানো হয়। এরপর সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহ প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই বিশাল মিছিলে অংশ নেন শত শত শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমিনা বেগম বলেন, 'দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বেলা দিদি আমার সহকর্মী। তার মতো একজন আদর্শ শিক্ষক ও সহকর্মী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। তার বিদায় আমাদের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা।' প্রাক্তন শিক্ষার্থী তুহিন জুবায়ের জানান, শিক্ষাগুরুর ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়, তারা কেবল একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাদের শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশের চেষ্টা করেছেন।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, 'শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ আমাকে মুগ্ধ করেছে। শিক্ষকদের মর্যাদা যে সমাজের সবার উপরে, এই আয়োজন তারই প্রমাণ। এমন দৃষ্টান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষক ও শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে উদ্বুদ্ধ করবে।' বিদায় বেলায় ফুলের শুভেচ্ছা ও উপহারে সিক্ত হন এই গুণী শিক্ষক, যার হাত ধরে তৈরি হয়েছে অগণিত মানুষ।