ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসা ও সেবার আড়ালে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রগুলোর ভয়াবহ বাণিজ্যের চিত্র উঠে এসেছে। এক শ্রেণির অসাধু উদ্যোক্তা নিরাময় কেন্দ্রকে রীতিমতো ‘টর্চার সেলে’ পরিণত করেছেন। যেখানে মাদকাসক্ত বা মানসিক রোগীদের সুস্থ করার বদলে শারীরিক নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থ আদায়ের ফাঁদ পাতা হয়েছে। এমনকি সুস্থ মানুষকেও ‘মাদকাসক্ত’ সাজিয়ে আটকে রাখার মতো লোমহর্ষক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তদন্তে দেখা গেছে, এই অপকর্মের প্রধান অস্ত্র হলো ‘ক্যাচিং পার্টি’। এটি মূলত নিরাময় কেন্দ্রগুলোর ভাড়াটে একটি বিশেষ দল, যারা টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে অপহরণের কায়দায় ধরে নিয়ে আসে। পারিবারিক কলহ, সম্পত্তির বিরোধ কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েনকে পুঁজি করে অনেক অভিভাবক বা আত্মীয়-স্বজন এই পার্টির সাহায্য নিচ্ছেন। কোনো ব্যক্তিকে ঢাকার ভেতর থেকে তুলে আনতে এই পার্টি চার্জ করে ২৫ হাজার টাকা। আর সিলেট বা চট্টগ্রামের মতো দূরবর্তী এলাকা হলে খরচ শুরু হয় ৫০ হাজার টাকা থেকে, সাথে যুক্ত হয় প্রতি কিলোমিটারের যাতায়াত ভাড়া।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ইয়াবাসক্ত ওই তরুণকে নিরাময় কেন্দ্রে আনা হয়েছিল সুস্থ করার আশায়। কিন্তু সেখানে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার পরিবর্তে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি এখন ভারসাম্যহীন। তার বাবা সিভিল এভিয়েশনের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও অসাধু এই নিরাময় কেন্দ্রের বাণিজ্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৮০ লাখ ছাড়িয়ে গেলেও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা সেবার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত চার বছরে মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজার রোগী চিকিৎসার আওতায় এসেছেন।
কর্মকর্তাদের মতে, পারিবারিক বন্ধন শিথিল হওয়া, নিঃসঙ্গতা, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ এবং সহজলভ্য অর্থবিত্ত তরুণ প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সঠিক তদারকি না থাকায় নিরাময় কেন্দ্রগুলো সেবার বদলে এখন এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।