প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৩৩ (বৃহস্পতিবার)
সিলেটে প্রবাসীর জমি জবরদখলের অভিযোগ জামায়াতপন্থী আইনজীবীর বিরুদ্ধে

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের বানাগাঁওয়ে প্রবাসী আখতার আহমদ চৌধুরীর ৩৫ শতক জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতপন্থী এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে জমি নিয়ে পুলিশি সহায়তা চাইতে গিয়ে হয়রানিরও অভিযোগ করেছেন প্রবাসীর পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা আড়াইটায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মহানগরের বাগবাড়ি নরশিংটিলার জালালি আবাসিক এলাকার ৪৩ নম্বর বাসার মরহুম ফয়েজ আহমদ চৌধুরীর ছেলে এবং প্রবাসী আখতার আহমদ চৌধুরীর ভাই ফারুক আহমদ চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে ফারুক আহমদ চৌধুরী বলেন, ২০১৭ সালে তাঁর দুই প্রবাসী ভাই আখতার আহমদ চৌধুরী ও ইকবাল আহমদ চৌধুরী তাঁদের মায়ের নামে বানাগাঁও এলাকার বাসিন্দা স্বপ্না বেগমের কাছ থেকে ৩৫ শতক জমি ক্রয় করেন। এর আগে বংশপরম্পরায় জমিটির মালিক ছিলেন নেওয়ারুন্নেছা ও মকরম আলী নামের দুই ভাই-বোন। ২০০৮ সালে তাঁরা স্বপ্না বেগমের কাছে ওই জমি বিক্রি করেন।

ফারুক আহমদের অভিযোগ, স্বপ্না বেগম অবিবাহিত এবং তাঁর স্বামী-সন্তান না থাকায় মোগলগাঁও ইউনিয়নের যুগীরগাঁওয়ের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান ওই জমির ওপর দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, আব্দুল হান্নান নিজেকে নেওয়ারুন্নেছা ও মকরম আলীর উত্তরাধিকারী দাবি করে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে জমিটি দখলের চেষ্টা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এ নিয়ে ২০১২ সালে সহকারী জজ, কোম্পানীগঞ্জ আদালতে একটি স্বত্ব মোকদ্দমা করা হয়। পরে মামলায় স্বপ্না বেগমের পক্ষে রায় আসে বলে দাবি করেন ফারুক আহমদ। এরপর ২০১৭ সালে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বপ্না বেগমের কাছ থেকে তাঁরা জমিটি ক্রয় করেন।

ফারুক আহমদ বলেন, জমি কেনার পর থেকেই আব্দুল হান্নান তাঁদের পেছনে লাগেন। ২০১৮ সালের আগস্টে রাতের আঁধারে তাঁদের জমির সীমানায় পুঁতে রাখা পিলার তুলে ফেলার অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর, জেলা প্রশাসক ও জেলা বার আইনজীবী সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

তাঁর অভিযোগ, এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তের লোকজন জমিতে লাগানো ফসল কেটে নেওয়া এবং সীমানার পিলার তুলে ফেলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার-সালিশ হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হননি বলে দাবি করেন ফারুক আহমদ। এ ছাড়া জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে দুটি মামলা করা হলেও সেসব মামলার তারিখেও অভিযুক্ত হাজির হননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফারুক আহমদের অভিযোগ, সর্বশেষ গত মাসে আব্দুল হান্নানের নির্দেশে বানাগাঁওয়ের মৃত আছদ্দর আলীর ছেলে সোনাফর আলী ওরফে সোনাই (৪৫), একই গ্রামের মনফর আলী ওরফে মনু মিয়ার ছেলে তেরাব আলী, মৃত খুরশেদ আলীর ছেলে আব্দুল আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন তাঁদের জমিতে জোরপূর্বক ধানের চারা রোপণ করেন। এ সময় তাঁরা প্রবাসীর পরিবারের কেউ জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় জালালাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল হাবিব অভিযোগটি গ্রহণ না করে জিডি করার পরামর্শ দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন ফারুক আহমদ। তিনি অনলাইনে জিডি করার পর সেটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে হাতে লিখে জিডি করতে বলা হয় বলেও অভিযোগ করেন।

পরে বিষয়টি সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে জানানো হলে তিনি জালালাবাদ থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে সহযোগিতার নির্দেশ দেন বলে জানান ফারুক আহমদ। তবে এরপরও থানার পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফারুক আহমদ বলেন, এসব ঘটনার কারণে প্রবাসী আখতার আহমদ চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের জমিতে যেতে পারছেন না। জমির দখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আইনজীবী আব্দুল হান্নানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকেও সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।