প্রকাশিত : ২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:২৭ (বৃহস্পতিবার)
সাড়ে তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ

দেশে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আজ জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হবেন। সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ সংসদ সদস্যরা তাদের দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেবেন। তবে অসুস্থতার কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ভোট দিতে পারছেন না।

ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ ভবনেই বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। পরবর্তীতে গেজেট প্রকাশের পর আগামীকাল বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছিল, যেখানে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে একক প্রার্থী থাকায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি। এবার ৩৫ বছর পর আবারও ভোটগ্রহণ হচ্ছে, যদিও ফলাফল নিয়ে আগাম ধারণা স্পষ্ট। তবুও ১১ দলীয় জোট প্রার্থী দেওয়ায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

সংসদের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, মোট ৩০০ সাধারণ আসনের মধ্যে একটি শূন্য রয়েছে এবং সংরক্ষিত ৫০ আসনসহ মোট সংসদ সদস্য সংখ্যা ৩৪৯ জন। এদের সবাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন। সংসদে বিএনপির সদস্য সংখ্যা ২৪৭ জন, জামায়াতের ৭৭ জন এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সদস্য মিলিয়ে বাকি আসনগুলো পূরণ হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হওয়ার বিধান রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সিইসি। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে এই নির্বাচনের দিকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি রয়েছে।

নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছে, ব্যালট পেপার দুই অংশে বিভক্ত থাকবে—একটি মুড়ি অংশ এবং অন্যটি মূল ব্যালট অংশ। মুড়ি অংশে সংসদ সদস্যের তথ্য থাকবে এবং নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করতে হবে। অন্য অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নামের পাশে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভোট প্রদান করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন।

সবকিছু মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।