প্রকাশিত : ২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪৪ (বৃহস্পতিবার)
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে যা বললেন  উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং কূটনৈতিক আলোচনার ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মানজনক আমন্ত্রণ ও সুস্পষ্ট ঐকমত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব শর্ত পূরণ না হলে শীর্ষ পর্যায়ের সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো করার কোনো যুক্তি নেই।

ভারতের গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রকাশিত খবরকে অনুমাননির্ভর উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসন্ন সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে সফর হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত কম। তবে দুই দেশের মধ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতা প্রতিবেশী দেশের সঠিকভাবে অনুধাবন করা জরুরি। তিনি জানান, দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের সমর্থনে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ভারত কী ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বা প্রচারমাধ্যমে সুযোগ দেওয়া কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে চাপ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

বর্তমান সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, সৌদি আরবের আমন্ত্রণে শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর রিয়াদ সফর চূড়ান্ত হতে পারে। পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও জনসম্পর্ক জোরদারেও কাজ চলছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে আলোচনা চলছে।

আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং চুক্তি সইয়ের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শিগগিরই চালু হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের জয়কে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি দেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন। এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা হবে।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, সরকারের গত ছয় মাসে একটি শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করছে।