বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ, বিশেষ করে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিষয়ে জনগণের জ্ঞান, প্রচলিত ভুল ধারণা, সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও চাহিদা নিরূপণে পরিচালিত এক গবেষণা জরিপের ফলাফল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সিলেট শহরতলীর টুকের বাজার ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আইডিয়া, কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সিলেট ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সদস্য, আইডিয়া সিলেটের প্রতিনিধি তামান্না আহমদ, নোমান খান, কংকন কান্তি দাসসহ টুকের বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট ও মৌলভীবাজারসহ দেশের ১০টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত এ জরিপে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, এনজিও কর্মী, গৃহস্থ, ব্যাংকার, সাংবাদিক, সৌর ও ইলেকট্রিক পণ্য বিক্রেতা, সোলার স্থাপনকারী ও টেকনিশিয়ান এবং বিদ্যুৎ সেবা প্রদানকারী। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ সম্পর্কে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জ্ঞান, ধারণা, ভুল ধারণা, সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও চাহিদার একটি সামগ্রিক চিত্র উঠে এসেছে।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতা সৌরবিদ্যুৎ ও রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানেন। তবে মাত্র ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা সৌরবিদ্যুতের বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে অবগত।
সৌরবিদ্যুতের অর্থনৈতিক সুবিধা সম্পর্কেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি। জরিপে মাত্র ২১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। অন্যদিকে, ২৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিশেষ করে সৌর প্যানেল, দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকে না।
আয়োজকরা জানান, জরিপের ফলাফল থেকে বোঝা যায়; সৌরবিদ্যুৎ সম্পর্কে মানুষের প্রাথমিক পরিচিতি থাকলেও এর অর্থনৈতিক সুবিধা, দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও ব্যবহারিক সম্ভাবনা নিয়ে এখনও সঠিক তথ্যের অভাব রয়েছে। বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য প্রচার এবং কারিগরি সহায়তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সভায় লোডশেডিং সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্বে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকারি স্থাপনা, বাজার, সড়কবাতি, পার্কসহ বিভিন্ন জনসাধারণের স্থাপনায় রুফটপ ও অন্যান্য উপযোগী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ইউনিয়ন গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
আয়োজকদের মতে, সিলেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। জনগণের কাছে সৌরবিদ্যুৎ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া, বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব।