ছবি: সংগৃহীত
আজ ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় বর্তমানে ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শতাধিক নেতা-কর্মী।
ঘটনার পর মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়। তবে শুরু থেকেই মামলার তদন্ত নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দেয়। ২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলাটির তদন্ত নতুনভাবে শুরু করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরের বছর ২২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলা দুটির অধিকতর তদন্ত করা হয়। এরপর সম্পূরক অভিযোগপত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়।
২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এছাড়া আরও ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল, জেল আপিল ও বিভিন্ন আবেদন নিয়ে হাইকোর্টে শুনানি হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে দেন। এর ফলে মামলার সব আসামি খালাস পান।
এরপর ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। রায়ে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাকে দেশের ইতিহাসের একটি জঘন্য ও মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ বহু মানুষের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে তাঁদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ঘটনার সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এ মামলার ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্ত এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। তাই যথাযথ ও বিশেষজ্ঞ সংস্থার মাধ্যমে ঘটনাটির নতুন করে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো উচিত।
দুই দশকেরও বেশি সময় পর ২১ আগস্টের সেই ভয়াবহ হামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন মোড় নিয়েছে। বিচারিক আদালতের রায় বাতিল হওয়ার পর এখন হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন করে তদন্ত হলে হামলার প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে; এমন প্রত্যাশা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।