ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সময় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মো. আতাউর রহমান আতা (৬০) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন। আর ছেলের এমন নির্মম মৃত্যুর খবর যেন মায়ের হৃদয়ে শেষ আঘাত হয়ে এলো। সেই খবর শোনার পর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা গেলেন তাঁর বৃদ্ধ মা জহুরা খাতুন (৭৫)।
একই রাতে একটি পরিবারের ওপর নেমে এলো শোকের এমন দ্বিগুণ আঘাত। একজন হারালেন প্রাণ, আরেকজন সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ সহ্য করতে না পেরে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
বৃহস্পতিবার রাতে কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত আতাউর রহমান বারিষাব ইউনিয়নের নরোত্তমপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলে যাত্রী পরিবহনের জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আতাউর রহমান। দিনের ব্যস্ততা শেষে তাঁর ঘরে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু রাত বাড়লেও তিনি আর ফেরেননি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
এরপর রাত ৮টার পর স্বজনরা খবর পান, সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে শিমুলতলী সড়কে একটি মরদেহ পড়ে আছে। উদ্বিগ্ন স্বজনরা ছুটে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন; সেটি আর কেউ নন, তাঁদেরই আতাউর রহমান।
স্বজনদের ধারণা, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সময় ছিনতাইকারীরা তাঁকে ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে যায়। মাথায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
কিন্তু সন্তানের মৃত্যুর এই সংবাদ পৌঁছানোর পর বাড়িতে অপেক্ষমাণ বৃদ্ধ মা জহুরা খাতুন যেন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। স্বজনদের ভাষ্য, ছেলের মৃত্যুর খবর শুনেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মুহূর্তের ব্যবধানে একটি ঘর থেকে হারিয়ে গেলেন মা ও ছেলে; একজন ছিনতাইকারীদের ছুরির আঘাতে, অন্যজন সন্তানের শোকের আঘাতে।
আড়ালিয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আতাউর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর মাথায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।