ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ হাসান বুলবুল হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ও কথিত সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন নারীও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার অন্যদের মধ্যে সিফাতের সহযোগী জুম্মন ওরফে ‘হোয়াইট জুম্মন’ রয়েছেন। পুলিশ তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নিহত জাহিদ হাসান বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা শাখার নেতা ছিলেন। গত ২০ আগস্ট রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় তার পথরোধ করে হামলা চালানো হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শেখ সিফাতকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেছিলেন বুলবুল। ওই মামলা তুলে নিতে সিফাত ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। মামলা প্রত্যাহার না করায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ।
এদিকে বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকায় বিক্ষোভ করেন ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুমানের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা তদন্ত করে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।