প্রকাশিত : ২২ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৫৪ (রবিবার)
বড়লেখায় জিম্মায় থাকা ৯টি ভারতীয় মহিষ উধাও, ১৫ জনের নামে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে ভারতীয় চোরাই মহিষ জিম্মায় রাখা নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছে। বিজিবির নজরদারিতে থাকা অবস্থায় ১৪টি মহিষের মধ্যে ৯টি সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে বড়লেখা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দুই সহোদরসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়লেখার গৌরনগর এলাকায় অভিযান চালায় বিজিবি ও পুলিশ। সেখানে হিফজুর রহমান ও লুৎফুর রহমান নামের দুই ভাইয়ের গোয়ালঘরে সাতটি গাভি মহিষ ও সাতটি বাছুরসহ মোট ১৪টি ভারতীয় মহিষ পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মহিষগুলো স্থানীয় চান্দগ্রাম বাজার থেকে কেনার দাবি করেন এবং দুটি রশিদ প্রদর্শন করেন।

বিজিবি বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে রশিদে উল্লেখিত বিক্রেতা ও বাজার ইজারাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তাৎক্ষণিক মালিকানা যাচাই সম্ভব না হওয়ায় বিজিবি মহিষগুলো ওই বাড়ির গোয়ালঘরেই স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের জিম্মায় রাখে এবং রশিদ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত মহিষ সরিয়ে নিতে নিষেধ করা হয়।

পরবর্তী অনুসন্ধানে দেখা যায়, মহিষ কেনার রশিদ দুটি ছিল ভুয়া। রশিদে উল্লেখিত বিক্রেতারা বিজিবিকে জানান, ওই রশিদে তাদের কোনো স্বাক্ষর নেই। এছাড়া বাজার ইজারাদার আলাল উদ্দিনও এ ব্যাপারে অসংলগ্ন তথ্য প্রদান করেন।

জালিয়াতি ধরা পড়ার পর শুক্রবার বিকেলে বিজিবি ও পুলিশ পুনরায় লুৎফুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালায়। কিন্তু সেখানে কোনো মহিষ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির পাশের একটি জমি থেকে মাত্র পাঁচটি মহিষ উদ্ধার করা হয়। বাকি ৯টি মহিষের কোনো হদিস মেলেনি।

শনিবার (২২ আগস্ট) এ ঘটনায় গৌরনগর গ্রামের হিফজুর রহমান, তার বড় ভাই লুৎফুর রহমান এবং চান্দগ্রাম বাজারের ইজারাদার আলাল উদ্দিনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিজিবি।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও বাকি মহিষগুলো উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।