ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের পাশে থাকা ছায়াবৃক্ষ উজাড়ের এক মহোৎসব শুরু হয়েছে। বন বিভাগের উদ্যোগে প্রায় ১৯ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সাড়ে চার হাজার গাছ কাটার এই প্রক্রিয়া শুরু হলেও খোদ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বলছে, সড়ক প্রশস্ত করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। অকারণে এমন বৃক্ষনিধনে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আন্দোলনে নেমেছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) সড়কের ইচ্ছারচর এলাকায় ‘সুনামগঞ্জ জেলা হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলন’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছ কাটা বন্ধ না হলে বন বিভাগ কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দরপত্রে শুধুমাত্র বিদেশি প্রজাতির আকাশমণি বা রেইনট্রি কাটার কথা থাকলেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সাবাড় করা হচ্ছে দীর্ঘদিনের পুরনো দেশীয় ফলদ ও ছায়াবৃক্ষ।
ইচ্ছারচর গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়া আক্ষেপ করে জানান, নিজের হাতে লাগানো জামগাছটি সরকারি জায়গার দোহাই দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে, যা এলাকার পথচারী ও শিক্ষার্থীদের প্রশান্তি দিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় এই সড়কের দুই পাশে প্রায় ২০ হাজার গাছ লাগানো হয়েছিল। দীর্ঘ দুই দশক ধরে স্থানীয় উপকারভোগীরা এসব গাছের পরিচর্যা করে আসছেন।
পরিবেশকর্মীদের দাবি, ৪ হাজার ৪৬৮টি গাছ মাত্র ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে, যার প্রকৃত বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। এর ফলে সরকার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
আইনি জটিলতার বিষয়ে হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের সভাপতি রাজু আহমেদ জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক বনায়নের গাছ না কেটে উপকারভোগীদের লভ্যাংশ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
এছাড়া জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন কমিটির অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটা অবৈধ। যদিও বর্তমান জেলা প্রশাসন এ ধরনের কোনো অনুমোদনের কথা অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান জানান, ১০ বছর পূর্ণ হওয়ায় সামাজিক বনায়নের নিয়ম মেনেই লভ্যাংশ বিতরণের উদ্দেশ্যে গাছ কাটা হচ্ছে। দেশীয় গাছ না কাটার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সড়ক প্রশস্ত করার কোনো প্রকল্প না থাকায় এই গাছ কাটার যৌক্তিকতা তাদের কাছে স্পষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সম্পদ রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।