প্রকাশিত : ২২ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৪২ (রবিবার)
বন্দে মাতরম বিতর্ক: শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্যে কঙ্গনার কড়া জবাব

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে প্রবীণ অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিজেপি সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। শর্মিলাকে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়ে কঙ্গনা বলেছেন, একজন শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গি এত সীমাবদ্ধ হওয়া কাম্য নয়।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম বিতর্ক প্রসঙ্গে শর্মিলা ঠাকুর মন্তব্য করেছিলেন যে, এই গানের কিছু পঙ্ক্তি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। তিনি যুক্তি দেন, ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতিতে দেশের সবাইকে নিয়ে চলতে হলে এই গানের প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়া উচিত, যেখানে কেবল মাতৃভূমির বন্দনা করা হয়েছে।

শর্মিলা ঠাকুরের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কঙ্গনা রানাউত বলেন, ‘শর্মিলাজি প্রকাশ্যে নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। কিন্তু একজন শিল্পী হিসেবে কবিতা ও শিল্প সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এতটা কৃত্রিম ও সীমাবদ্ধ হতে পারে দেখে আমি বিস্মিত।’ কঙ্গনার মতে, কবিতা বা গান সবসময় আক্ষরিক অর্থে বিচার করতে নেই, বরং এর রূপক ও অন্তর্নিহিত শক্তি উপলব্ধি করা জরুরি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই অমর সৃষ্টিকে ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনা’ ও ‘শক্তির আধার’ হিসেবে উল্লেখ করে কঙ্গনা প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে এত মহান একটি শিল্পকর্মকে শুধু ধর্মীয় আচারের মাপকাঠিতে বিচার করা হয়? স্বামী বিবেকানন্দের দর্শন টেনে তিনি বলেন, ‘শক্তি’ শব্দটি কেবল ধর্মীয় অর্থে নয়, বরং সামর্থ্য ও ক্ষমতার প্রতীক। তিনি সবাইকে হিন্দু-মুসলিম মানসিকতার ঊর্ধ্বে ওঠার আহ্বান জানান।

তবে তাত্ত্বিক দ্বিমত থাকলেও শর্মিলা ঠাকুরের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাবোধের কোনো কমতি রাখেননি কঙ্গনা। তিনি তাঁর বার্তা শেষ করেন এই বলে যে, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তিনি শর্মিলা ঠাকুরকে ভালোবাসেন এবং প্রবীণ এই অভিনেত্রীর স্নেহমাখা আলিঙ্গন পেতে তাঁর কোনো দ্বিধা নেই।

উল্লেখ্য, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে বন্দে মাতরম বিতর্ক শুরু হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, দলীয় কর্মসূচিতে জাতীয় গানের প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়া হবে।