প্রকাশিত : ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৩২ (সোমবার)
নুসরাত হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় সোমবার

নুসরাত জাহান রাফি

আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর চূড়ান্ত রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে উচ্চ আদালতে রায়ের দিন ধার্য হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।

নুসরাতের মা আশা প্রকাশ করে বলেন, নিম্ন আদালতের দেওয়া দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তারা পূর্ণ ন্যায়বিচার পাবেন বলেও আশা করেন তিনি।

মেয়ের হত্যার বিচার নিয়ে আদালতের প্রতি আস্থা প্রকাশ করলেও বেঁচে থাকা অন্য সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন শিরিন আক্তার। তিনি বলেন, প্রভাবশালী মহলের নানা হুমকি এবং মামলার বাদী ও সাক্ষী হিসেবে পরিবারের সদস্যরা যুক্ত থাকায় তারা প্রতিমুহূর্তে এক ধরনের অদৃশ্য ভয়ের মধ্যে রয়েছেন।

নুসরাতের মায়ের আশঙ্কা, আসামিদের সহযোগীরা যেকোনো সময় পরিবারের ওপর প্রতিশোধ নিতে পারে। বিশেষ করে ছেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় সরকারের কাছে পরিবারের সদস্যদের জন্য স্থায়ী ও জোরদার নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে গত ২৮ জুলাই থেকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার পেপারবুক ও আপিলের ওপর টানা ১৭ কার্যদিবস শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ২৪ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেন।

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেন নুসরাতের মা। এর জেরে ওই বছরের ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান মামলা করেন। মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন।

নিম্ন আদালতের ওই রায় অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের করা আপিলের ওপর উচ্চ আদালতে দীর্ঘ শুনানি চলে। সেই শুনানি শেষে এবার মামলাটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে।