প্রকাশিত : ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২৫ (মঙ্গলবার)
মালয়েশিয়ায় অনৈতিক কর্মকান্ড, ১২ বাংলাদেশিসহ আটক ৫৭

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলানের সেরেমবান এলাকায় বাজেট হোটেল ও হোস্টেলকে ঘিরে বিদেশি নারীদের দিয়ে পরিচালিত কথিত যৌন ব্যবসার সন্ধান পেয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। এ ঘটনায় স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ২টায় সেরেমবানের তিনটি স্থানে অভিযান চালায় জেআইএমের পুত্রাজায়া সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগের কর্মকর্তারা। অভিযানে কুয়ালালামপুরে ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাসের (কেবিআরআই) কর্মকর্তারাও সহযোগিতা করেন।

অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ৭ জন স্থানীয় নাগরিক, ৩ জন ইন্দোনেশিয়ার, ১২ জন বাংলাদেশি এবং ৩ জন মিয়ানমারের নাগরিকসহ মোট ৫৭ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৯ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে।

তদন্তে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দৈনিক ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে হোস্টেল ও বাজেট হোটেলে বিদেশি নারীদের অবস্থানের ব্যবস্থা করত। স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিকদের মধ্য থেকে কয়েকজন ‘ক্যাপ্টেন’ বা ম্যানেজার হিসেবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

অভিবাসন বিভাগ জানায়, বিদেশি নারীরা গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি সেবার জন্য প্রায় ৫০ রিঙ্গিত করে নিতেন। গ্রাহকদের মধ্যে স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিক উভয়েই ছিলেন। প্রায় এক বছর ধরে এই কার্যক্রম চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

চক্রটির কার্যক্রম ছিল সুসংগঠিত এবং নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হতো। এই অবৈধ ব্যবসা থেকে বছরে আনুমানিক ৫ লাখ ৪০ হাজার রিঙ্গিত লাভ হতো বলে ধারণা করছে অভিবাসন বিভাগ।

অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর বিভিন্ন ধারায় তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় সাতজনকে কথিত অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে ধারা ৫৬(১)(ডি)-এর আওতায় তদন্ত করা হচ্ছে। অন্য বিদেশিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ৬(১)(সি) এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর ৩৯(বি) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্তের জন্য অভিবাসন বিভাগের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, দেশের আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত যেকোনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। মালয়েশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।