ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় কালনী নদী থেকে উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত নারীর পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তিনি শান্তিগঞ্জ উপজেলার সলফ গ্রামে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। নিহতের নাম লাকি বেগম, তিনি দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের মৃত আব্দুস শহিদ মিয়ার মেয়ে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজের কয়েক দিন পর নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মাস ধরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের সলফ গ্রামের কামাল মিয়ার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন লাকি বেগম। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহবিচ্ছিন্না এবং এতিম এই নারী স্বজনদের আশ্রয়েই থাকতেন।
গৃহকর্তা কামাল মিয়ার দাবি অনুযায়ী, গত ২১ আগস্ট সকালে কাউকে কিছু না জানিয়ে ঘরের চাবি ও নিজের কাপড় নিয়ে তিনি হঠাৎ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল।
তবে এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের দানা বাঁধছে। নিহতের চাচা দবির মিয়া অভিযোগ করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তার দাবি, গৃহকর্তা কামাল মিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ভাতিজিকে হত্যা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, কালনী নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধারের পর স্বজনরা এসে লাকির পরিচয় নিশ্চিত করেন। পুলিশ ইতোমধ্যে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।