ছবি: ইমজা নিউজ
নিখোঁজের ৪৫ দিন পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিনের। গত ৮ জুলাই সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জি-টাইপ কোয়ার্টার থেকে নিখোঁজ হন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও পুলিশের একাধিক তৎপরতার পরও তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
জেলিনের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) নিখোঁজের সময় উল্লেখ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তথ্য গোপনের অভিযোগও করেছে পরিবার। তবে দীর্ঘ ৪৫ দিনেও জেলিনের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পুলিশের সক্ষমতা ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নিখোঁজ জেলিনের মামা আবুল কালাম আজাদ ইমজা নিউজকে বলেন, ‘সে যদি মারাও যায়, বা কেউ তাকে মেরেও ফেলে, লাশটা এতদিন থাকার কথা না। লাশটা তো পাওয়ার কথা। কিছু একটা বলা যাবে তো। কেউ যদি তাকে কিডন্যাপ করে থাকে, মুক্তিপণ দাবি করে থাকে, তাও তো করল না।
আবুল কালাম আজাদের প্রশ্ন- মানুষটা কি হারিয়ে যাবে?’
পরিবারের দাবি, জেলিন নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তারা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় পার হলেও নিখোঁজের রহস্যের কোনো সুরাহা না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্বজনদের মধ্যে।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ইমজা নিউজকে বলেন, ‘পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। পুলিশের সব শাখা নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে সব ধরনের অপারেশন পরিচালনা করছে।’
পুলিশের এই বক্তব্য অনুযায়ী, জেলিনকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখা কাজ করছে এবং সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে ৪৫ দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পুলিশের তৎপরতার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে পরিবার।
এদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, জেলিন নিখোঁজ হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের গাফিলতি হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
জেলিন নিখোঁজের ৪৫ দিন পার হলেও তার অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য না মেলায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। একদিকে পরিবারের অভিযোগ ও উদ্বেগ, অন্যদিকে পুলিশ সর্বাত্মক তৎপরতার দাবি করলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করতে না পারায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।