ছবি: সিলেট প্রেসক্লাব।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের তুরুকভাগ (পশ্চিমপাড়া) গ্রামে পুলিশের এক এএসআইসহ একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে বসতভিটার জমি দখলের চেষ্টা, হামলা, মামলা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। একই গ্রামের লিলু মিয়ার স্ত্রী শেলি বেগম এ অভিযোগ করেছেন।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় শেলি বেগম জমি দখলের চেষ্টা ও হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ শিল্প পুলিশ, সিলেট শাখায় কর্মরত এএসআই আলম আহমদসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে শেলি বেগম বলেন, তার স্বামী লিলু মিয়ার পূর্বপুরুষদের ভূ-সম্পত্তি দখলের জন্য তুরুকভাগ (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের নাছিম আহমদ, এএসআই আলম আহমদ, নজরুল আহমদ, লোকমান আলী, লুতু মিয়া, শাহিন আহমদ ও মরম আলীসহ আরও ৮-১০ জন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালিয়ে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে লোকমান আলী ২০২৫ সালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার স্বামী লিলু মিয়া, ভাসুর লাল মিয়াসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে লোকমান আলী গোলাপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন।
শেলি বেগম আরও অভিযোগ করেন, লোকমান আলীর ভাতিজা এএসআই আলম আহমদের প্রভাব ও সহযোগিতায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও জিডি করা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় আলম আহমদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের হয়রানি করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৩ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে নাছিম আহমদ, আলম আহমদ (এএসআই), নজরুল আহমদ, লোকমান আলী, লুতু মিয়া, শাহিন আহমদ ও মরম আলীসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এএসআই আলম আহমদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হামলায় নেতৃত্ব দেন। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শেলি বেগম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদেশ অনুযায়ী সার্ভেয়ার দিয়ে তাদের বসতবাড়ির জায়গা ভাগ-বাটোয়ারা ও সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হলে অভিযুক্তরা এতে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাদের গালিগালাজ করা হয় এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করা হয়।
হামলায় তারা দুজনই আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন। এরপর তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় মামলা করলে তাকে ও তার স্বামীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ঘটনায় তিনি গোলাপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
শেলি বেগম বলেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি হামলার ঘটনা ও তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং এএসআই আলম আহমদসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।