প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:১৪ (বুধবার)
সিলেটে ‘প্রেমিকাকে’ চা-পান খাওয়ানোয় ব্যবসায়ীকে খু/ন: পুলিশ খুঁজছে রহস্য

সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন ইসলামাবাদ এলাকায় ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন (৬৫) হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি জালাল আহমদ (৪০)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যার পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর এ হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। আটক জালালের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে এক পুলিশ সদস্যের পাশে বসা অবস্থায় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে জালাল দাবি করেন, একজন নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। ওই নারী স্থানীয় এক বাবুর্চির স্ত্রী, যার স্বামী মারা গেছেন। হোটেলে কাজের সূত্রে তাদের পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

জালালের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত শাহাব উদ্দিন প্রায়ই ওই নারীকে নিজের দোকানে চা-পান খাওয়াতেন, যা তিনি ভালোভাবে নেননি। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে শাহাব উদ্দিন তাকে গালাগালি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি তাকে হত্যা করেন বলে দাবি জালালের।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, রবিবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে ইসলামাবাদ এলাকায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিও তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লিনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

উল্লেখ্য, গত রবিবার দিবাগত রাতে ইসলামাবাদ এলাকায় নিজ বাসার সামনে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। চারখাই বাজারে তার ভোগ্যপণ্যের দোকান রয়েছে, যেখানে তিনি চা-পানও বিক্রি করতেন। পরিবারসহ তিনি ইসলামাবাদ এলাকায় বসবাস করতেন। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

এর আগে, গত ১২ আগস্ট সিলেট নগরের রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে (২৫) হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় আটক বাবুল প্রথমে সম্পর্কজনিত বিরোধের কথা বললেও পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দীতে চুরির উদ্দেশ্যে গিয়ে ধরা পড়ে যাওয়ায় তাদের হত্যা করার কথা স্বীকার করে।