প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৩২ (বুধবার)
রংপুরে শিক্ষক পরিবার হ/ত্যা: ফরেনসিক প্রতিবেদনে শ্বা/সরো/ধে মৃ/ত্যুর ইঙ্গিত

রংপুর নগরীতে নিজ বাড়িতে খুন হওয়া শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তাদের দুই সন্তানের মরদেহের ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চারজনেরই মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মরদেহগুলো উদ্ধারের পর বেশ দেরিতে ময়নাতদন্তের জন্য আনা হয়, ফলে সেগুলো পচনের পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। তবুও পরীক্ষায় চারটি মরদেহের গলায় দাগ পাওয়া গেছে, যা শ্বাসরোধের ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া কয়েকটি মরদেহে বুকে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকলেও সেগুলো মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট নয় বলে মত দেন তিনি।

ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, গলার আঘাতের বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তদন্ত কর্মকর্তা চাইলে তা সংগ্রহ করতে পারবেন।

ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ময়নাতদন্ত ও পরীক্ষায় কোনো ধরনের যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মেলেনি। ল্যাব পরীক্ষার জন্য পাঠানো নমুনাতেও এ ধরনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

আসামিদের শরীরে আঁচড়ের দাগ বা নিহতদের নখে কোনো আলামত ছিল কি না, এ বিষয়ে তিনি বলেন, এসব নমুনা আগে থেকেই সিআইডি দল সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে, তাই ময়নাতদন্তের সময় তা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

মরদেহের মুখ কালো হয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো রাসায়নিক পদার্থের কারণে নয়; বরং পচন প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই এমনটি ঘটে থাকে।

মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ফরেনসিক পরীক্ষায় নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা সম্ভব নয়; সাধারণত একটি আনুমানিক সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া চারজনের মধ্যে কে আগে বা পরে মারা গেছেন, সেটিও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

এর আগে মর্গের এক কর্মচারীর বক্তব্য ঘিরে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, সে প্রসঙ্গে ডা. বাবলু কিশোর বলেন, নমুনা সংগ্রহের সময় ভুল ধারণা থেকে এমন মন্তব্য করা হয়ে থাকতে পারে। তবে পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়া পাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রতিবেশী দুই যুবক মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।