প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:০৫ (বৃহস্পতিবার)
বরফধস ও রাবিশে তৈরি কৃত্রিম লেক বিস্ফোরণ, নেপালে শতাধিক প্রাণহানি

ছবি: সংগৃহীত

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন চার শতাধিক মানুষ। নদীর উজানে বরফধস ও ভূমিধসে বিপুল পরিমাণ রাবিশ জমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে অস্থায়ী একটি লেক তৈরি হয়েছিল। পরে সেই লেক হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে রাবিশ ও পানি একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে আসায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়।

সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, নেপালের হাইড্রোলজি ও মেটেওরোলজি বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

উজানে তৈরি হয়েছিল অস্থায়ী লেক

নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান বিনোদ পারাজুলি জানান, চীনের সরবরাহ করা স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, স্থানীয় মিতেরি সেতু থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নদীর উজানে বিপুল পরিমাণ রাবিশ জমেছিল। এতে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং সেখানে একটি অস্থায়ী লেক তৈরি হয়।

পরবর্তী সময়ে ওই লেকটি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে পানি ও রাবিশ নদীর নিম্নাঞ্চলের দিকে প্রবল বেগে নেমে আসে। এতে আকস্মিক বন্যা ভয়াবহ রূপ নেয়।

বরফধস ও ভূমিধসের প্রমাণ

বিনোদ পারাজুলি বলেন, অস্থায়ী লেক তৈরির আগে ও পরের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে বরফধস ও ভূমিধসের চিহ্নও দেখা গেছে। বরফ ও রাবিশ মিলে নদীতে একটি প্রাকৃতিক বাধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। পরে সেটি ভেঙে যায়।

তিনি বলেন, উজানে বিপুল পরিমাণ রাবিশ জমে থাকায় পানি নিচের দিকে নেমে আসার সময় এর সঙ্গে সেই রাবিশও প্রবল বেগে নেমে আসে। ফলে বন্যার ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।

‘শুধু পানি হলে এতটা ধ্বংসাত্মক হতো না’

বিনোদ পারাজুলির ভাষ্য, ‘যদি শুধু স্বচ্ছ পানি গড়িয়ে আসত, কোনো রাবিশ না থাকত, তাহলে এই আকস্মিক বন্যা এতটা ধ্বংসাত্মক হতো না।’

ভূমিকম্পের সম্ভাব্য প্রভাব

এর আগে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক জানিয়েছিলেন, নদীতে বরফধসের কারণে পানি আটকে গিয়ে একপর্যায়ে তা একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। একই সঙ্গে বুধবার তিব্বতে সংঘটিত একটি ভূমিকম্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তার ধারণা, ওই ভূমিকম্পের প্রভাবে নদীর উজানে জমে থাকা পানি ও রাবিশ আকস্মিকভাবে নিচের দিকে নেমে আসার ঘটনা ত্বরান্বিত হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার পর নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা চলছে। নিখোঁজ চার শতাধিক মানুষের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।