গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সালেহীন আকন্দ নামের আরও এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান।
অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলার বৈষ্ণবদাস গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। বিয়ের আশ্বাসে বিশ্বাস রেখে বিভিন্ন সময় তিনি চেয়ারম্যানকে প্রায় তিন লাখ টাকাও প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে চেয়ারম্যান নানা টালবাহানা শুরু করেন এবং তাকে ভয়ভীতি দেখানোসহ সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চালান।
গাইবান্ধা জজ কোর্টের বাদীপক্ষের আইনজীবী রেজওয়ান সরকার জানান, অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারী শিক্ষিকাকে তার পূর্বের স্বামীকেও তালাক দিতে বাধ্য করেছিলেন। এছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষিকার আরও অভিযোগ, তার কিছু ব্যক্তিগত ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত ও সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।