প্রকাশিত : ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:২১ (শুক্রবার)
নেপালের বন্যার পানি গঙ্গা হয়ে আসছে বাংলাদেশে

ছবি: সংগৃহীত

নেপালের তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পানি ভারতের গন্ধক নদী হয়ে গঙ্গায় প্রবেশের পর ফারাক্কা বাঁধ অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। পরবর্তী সময়ে এ পানি যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মা নদীর প্রবাহে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীতীরবর্তী মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।

তিনি জানান, তিব্বত-নেপাল সীমান্তে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার পানি ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদী হয়ে নারায়ণী-গন্ধক নদীব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতের বিহারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন গন্ধক নদীর ভাটি এলাকায় সম্ভাব্য আকস্মিক পানি বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।

বিহার রাজ্য সরকার ভালমিকিনাগরের গন্ধক বাঁধের ৩৬টি গেটই খুলে দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। গন্ধক নদীর অতিরিক্ত পানি বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হাজিপুর-সোনপুর এলাকার কাছে গঙ্গা নদীতে মিলিত হবে।

এরপর গঙ্গার মূল প্রবাহের সঙ্গে পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে ফারাক্কা বাঁধ অতিক্রম করে বাংলাদেশের গঙ্গায় প্রবেশ করতে পারে। পরবর্তীতে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়ে এ পানি পদ্মা নদীর প্রবাহে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে নেপালে সৃষ্ট এই পাহাড়ি ঢলের পানি ঠিক কখন বাংলাদেশে পৌঁছাবে, তা বর্তমান পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন মোস্তফা কামাল পলাশ। নদীপথে অগ্রসর হওয়ার সময় পাহাড়ি বন্যার পানির তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনও ভাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পাহাড়ি ঢলের শক্তি ক্ষয়ের বিষয়টি উল্লেখ করেছে।

এদিকে বিহারের গঙ্গার কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে এরই মধ্যে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নেপাল থেকে আসা অতিরিক্ত পানি গঙ্গায় যুক্ত হলে ভাটি এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

পাহাড়ি ঢলের সম্ভাব্য গতিপথ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—ভালমিকিনাগর → গন্ধক → হাজিপুর/সোনপুর → গঙ্গা → পূর্ব বিহার → ফারাক্কা → বাংলাদেশ।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের গঙ্গা-পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং বিশেষ করে চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে আগামী কয়েক দিন নদীর পানির উচ্চতা ও পরিবর্তনের ওপর সতর্ক নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।