প্রকাশিত : ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৩২ (শুক্রবার)
৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে ৩০ জন: সিলেটের চার জেলায় কে কোথায়?

ছবি: সংগৃহীত

দেশের ৬৪ জেলায় সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে। তাঁদের কেউ একটি, আবার কেউ দুই থেকে তিনটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি করবেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দ থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে তা লুটপাট করা হয়েছে। লুট করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অন্য অংশ দেশের ভেতরে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

এ অবস্থায় জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও মাদক প্রতিরোধ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে দেওয়া হয়েছে হবিগঞ্জের দায়িত্ব। আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্ব। নিতাই রায় চৌধুরী পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গার দায়িত্ব।

দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর; আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় এবং আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মো. জি কে গউছকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম; এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা এবং আসাদুল হাবিব দুলুকে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মো. আসাদুজ্জামান পেয়েছেন খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দায়িত্ব।

এ ছাড়া জাকারিয়া তাহের ফেনী ও নোয়াখালী; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ; সাচিং প্রু কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলম টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

শামা ওবায়েদ ইসলামকে মাদারীপুর ও শরীয়তপুর; অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ এবং আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সুলতান সালাউদ্দিন পেয়েছেন ঢাকা জেলার দায়িত্ব।

পার্বত্য তিন জেলা- খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। হাবিবুর রশিদকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ; মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফারজানা শারমিন পেয়েছেন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা; শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইমরান খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠির দায়িত্ব পেয়েছেন।

মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁ; মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিনকে (নিজান) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকিতে ভূমিকা রাখবেন। তাঁরা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

একই সঙ্গে মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং পুরোনো অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও তাঁদের ওপর থাকবে।

এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি তাঁরা তদারকি করবেন।

প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সরকারি সভা ও সমন্বয় সভায় অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন। এর মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে সরকারের কার্যক্রমে সমন্বয়, জবাবদিহি ও গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।