প্রকাশিত : ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৪৬ (শনিবার)
সিলেটে মোটরসাইকেল ‘চুরির’ অভিযোগে পুলিশ সদস্য আটক, গণপিটুনি

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মুরসালিন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার হেতিমগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আটক মুরসালিন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিয়ানীবাজার থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও মোটরসাইকেলের মালিক মছকাপুর গ্রামের মাজেদ আহমদের ভাষ্য, মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে হেতিমগঞ্জ বাজারে আসেন মুরসালিন। গাড়িটি দেখার পর চালিয়ে দেখার কথা বলে তিনি মোটরসাইকেলটি নিয়ে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে মালিকের সন্দেহ হলে স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর পিছু ধাওয়া করা হয়। পরে তাকে আটক করা হয়।

আটকের পর মুরসালিন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলেও স্থানীয়দের ক্ষোভ থেকে রেহাই পাননি। একপর্যায়ে তাকে গণপিটুনি দিয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুরসালিন। তাঁর দাবি, তিনি সত্যিই মোটরসাইকেলটি কেনার জন্য এসেছিলেন। চালিয়ে দেখার সময় ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ওলিউর ইসলাম নামে এক ব্যক্তিও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন। তিনি প্রথমে নিজেকে মুরসালিনের দাদা পরিচয় দিলেও পরে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের সময় মুরসালিনকে চেনেন না বলে দাবি করেন। পরে পুলিশ ওলিউরকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আটকের সময় ওলিউর নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুল কবির জানান, মুরসালিন চলতি মাসের শুরুতে ছুটিতে গিয়েছিলেন। ছুটি শেষ হওয়ার পরও তিনি যথাসময়ে কর্মস্থলে যোগ দেননি।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি ছবেদ আলী বলেন, চোর সন্দেহে স্থানীয় জনতা মুরসালিনকে আটক করে পুলিশের কাছে দিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।