সাংবাদিক নিকুঞ্জ বিহারী গোস্বামী ও সুহাসিনী দাস (ছবি: সংগৃহীত)
ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের দুই নির্ভীক সৈনিক, দেশ ও সমাজের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট সাংবাদিক নিকুঞ্জ বিহারী গোস্বামী ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী সুহাসিনী দাসের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
প্রয়াত নিকুঞ্জ বিহারী গোস্বামী ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন সাহসী কর্মী, বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং সমাজহিতৈষী ব্যক্তিত্ব। শিক্ষা ও সমাজসেবার প্রসারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের অন্যতম স্মারক সিলেট নগরীর চালিবন্দরে প্রতিষ্ঠিত উমেশচন্দ্র-নির্মলাবালা ছাত্রাবাস। দীর্ঘদিন ধরে এই ছাত্রাবাসটি শিক্ষার্থীদের আবাসন ও শিক্ষাজীবনে সহায়ক একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।
অন্যদিকে সুহাসিনী দাস ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন সাহসী নারী সৈনিক। দেশ ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড তাঁকে সিলেটের ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে। তিনি উমেশচন্দ্র-নির্মলাবালা ছাত্রাবাসের সাবেক পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষা, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে তাঁর নিবেদিত ভূমিকা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তাঁর গুণগ্রাহী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
এই দুই গুণীজনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শনিবার (২৯ আগস্ট) সিলেট নগরীর চালিবন্দরস্থ উমেশচন্দ্র-নির্মলাবালা ছাত্রাবাসে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টায় সমবেত গীতাপাঠের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হবে। এরপর বেলা ১১টায় প্রয়াত নিকুঞ্জ বিহারী গোস্বামী ও সুহাসিনী দাসের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। সোয়া ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে স্মরণসভা। এতে তাঁদের জীবন, কর্ম, দেশপ্রেম, সমাজসেবা এবং শিক্ষা বিস্তারে অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।
স্মরণসভা শেষে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও মেধাবিকাশে সহায়তার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্মৃতি বৃত্তি প্রদান করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘নীহার সেন স্মৃতি বৃত্তি’, ‘হরিদাস-বনলতা-রাকেশ স্মৃতি বৃত্তি’ এবং ‘শেফালী-নির্মলা স্মৃতি বৃত্তি’। এসব বৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তার পাশাপাশি প্রয়াতদের স্মৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষপর্বে দুপুর ২টায় প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিকুঞ্জ বিহারী গোস্বামী ও সুহাসিনী দাস শুধু তাঁদের সময়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, তাঁরা ছিলেন দেশপ্রেম, মানবসেবা ও সমাজকল্যাণের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁদের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং তাঁদের আদর্শকে ধারণ করার মধ্য দিয়েই তাঁদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন সম্ভব।
সিলেটের এই দুই প্রখ্যাত গুণীজনের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের গুণগ্রাহী, শুভানুধ্যায়ী এবং উমেশচন্দ্র-নির্মলাবালা ছাত্রাবাসের সব প্রাক্তনীর যথাসময়ে উপস্থিতি ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন ছাত্রাবাস পরিচালনা কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মনোজ বিকাশ দেব রায় এবং সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ কৃষ্ণপদ সূত্রধর।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, দিনব্যাপী এ স্মরণানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নিকুঞ্জ বিহারী গোস্বামী ও সুহাসিনী দাসের সংগ্রামী জীবন, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজসেবার আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।