প্রকাশিত : ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২৯ (রবিবার)
স্থানীয় নির্বাচন: জনপ্রিয়তা-গ্রহণযোগ্যতা-ত্যাগে জোর, বিদ্রোহীদের নিয়ে সতর্ক বিএনপি

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। প্রার্থী বাছাইয়ে এলাকায় ও জনগণের কাছে জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা, সততা ও শিক্ষাগত যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। পাশাপাশি দলের প্রতি অনুগত এবং বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাদেরও মূল্যায়ন করা হবে।

দলীয় প্রতীক না থাকায় স্থানীয় নির্বাচনে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার আশঙ্কা করছে বিএনপির হাইকমান্ড। এ কারণে শুরু থেকেই একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দলটি। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য জেলা, উপজেলা ও মহানগর নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। দলীয় প্রতীক না থাকায় নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থীদের প্রতি দলের সমর্থন থাকবে।

কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে প্রথমে তাকে কেন্দ্রে ডেকে দলের সিনিয়র নেতারা আলোচনা করবেন। দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এরপরও কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোটের মাঠে থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে একজন প্রার্থীকে দলীয় সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শৃঙ্খলা ভেঙে যাতে একাধিক প্রার্থী না হন, সে বিষয়ে নেতাদের কঠোর বার্তা দেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর নেতারা বসে একজন প্রার্থী ঠিক করবেন। জেলা পর্যায়ের সহযোগিতা নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একজনের বাইরে যাতে দলের আর কেউ প্রার্থী না হন, সে বিষয়েও সামগ্রিক প্রচেষ্টা থাকবে।

গত ৯ মে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করার বার্তা দেন তিনি। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের পরামর্শ দেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া দলীয় নেতাদের মধ্য থেকেও কয়েকজনকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশাসক হিসেবে তাদের কাজের সফলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। যারা দায়িত্ব পালনে ভালো করবেন, দল তাদের মূল্যায়ন করতে পারে। দায়িত্বে থাকা প্রশাসকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন-এমন ইঙ্গিতও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পাওয়া গেছে।

বিএনপির এক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত যোগ্যতা অনুযায়ী দলের প্রার্থী বাছাই করা হবে। তবে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের ভূমিকা ছিল, যারা জেল-জুলুম সহ্য করেছেন এবং জনগণের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি, তাদেরও মূল্যায়ন করা হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলা, উপজেলা ও মহানগরের নেতারা প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, সেভাবেই প্রার্থী বাছাই করা হবে। একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এলাকায় ও জনগণের কাছে জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি ত্যাগী নেতাদেরও মূল্যায়ন করবে দল।

এদিকে চলতি বছরের শেষদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তফসিল ঘোষণার পরই বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করবে বলে জানা গেছে।