প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৩১ (সোমবার)
শিক্ষার্থী নন, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক কলেজশিক্ষক!

ছবি: সংগৃহীত

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদ। তবে বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন; পেশায় একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক। ছাত্রত্ব না থাকা একজনকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের তৎকালীন আহ্বায়ক শাকিল আহমেদকে সম্প্রতি বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এরপর শূন্য পদে গত ২২ আগস্ট রাতে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ৩৭ সদস্যের জাবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় সংসদ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবদুল্লাহ আল মাসুদ জাবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নন। জামালপুর শহরের উইজডম সেন্ট্রাল কলেজে উচ্চতর গণিত বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি।

এদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে মাসুদকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আজমের সঙ্গেও তার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ছবি ঘিরেও তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আদিবা হক মিলা এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘একজন অছাত্র এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের শীর্ষ পদে বসানো সত্যিই কষ্টের। তিনি যে কলেজে শিক্ষকতা করেন, সেটির মালিক জামায়াতের একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী।’

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদ। তিনি দাবি করেন, তিনি যে কলেজে শিক্ষকতা করেন, ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে তার যেসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, সেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মাসুদ বলেন, আগামী মাসে তিনি মাস্টার্সে ভর্তি হবেন। ছাত্রদলের রাজনীতিতে বিবাহিত বা অবিবাহিত হওয়া কোনো বাধা নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, তিনি বিবাহিত।

অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি হাফিজুর রহমান সোহান বলেন, ‘অভিযোগগুলো আমরা শুনেছি। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’