সিলেটের জকিগঞ্জে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় একই সন্ধ্যায় বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। সদ্যবিবাহিত ছেলেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হারানোর খবর সহ্য করতে না পেরে কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান তাঁর বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের খিলগ্রাম (খালপাড়) এলাকায়।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, খিলগ্রাম (খালপাড়) এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে মাসুক আহমেদ (৩৮) শাহগলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার নুসরাত লাইটিংয়ে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। রোববার সন্ধ্যায় কর্মস্থলে কাজ করার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
মাসুক আহমেদের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই নেমে আসে শোকের ছায়া। ছেলের আকস্মিক মৃত্যু সংবাদ শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা আব্দুল লতিফ (৬৭)। স্বজনরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনিও মারা যান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সদ্যবিবাহিত মাসুক আহমেদের হাতে তখনো বিয়ের মেহেদির দাগ পুরোপুরি মুছে যায়নি। নতুন সংসার নিয়ে তাঁর ছিল অনেক স্বপ্ন ও পরিকল্পনা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই অকালেই ঝরে গেল তাঁর জীবন। ছেলের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি বাবা।
স্বজনদের ভাষ্য, মাসুক ছিলেন পরিবারের অত্যন্ত প্রিয় একজন সদস্য। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। আর ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাবার মৃত্যুর ঘটনায় শোক যেন আরও ভারী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় লোকজনও ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, ছেলের মৃত্যুর শোকেই বাবার মৃত্যু পুরো ঘটনাটিকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাসুক আহমেদের মৃত্যু হয়েছে এবং ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শুনে তাঁর বাবাও মারা গেছেন।
তিনি আরও জানান, নিহত মাসুক আহমেদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।