আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা রমজানের পর নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। জানুয়ারিতে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও রমজানের সময়সূচি ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা রিভিউয়ের বিষয়টি বিবেচনায় এনে তা পরিবর্তন করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলে তা প্রায় এক মাস চলত এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াত। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরু হয়ে প্রায় এক মাস চলায় ওই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষা রমজানের পরেই অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সব পাবলিক পরীক্ষাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সাধারণত দেশের পরীক্ষা বর্ষাকাল বা বৃষ্টির মৌসুমে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে ভবিষ্যতে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট সময়সূচিতে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, একই সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষার সময় নির্ধারণের বিষয়েও ভাবা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়ে থাকে।
এর আগে গত ১৪ মে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু হতে পারে। তবে ওই সময় রমজান ও ঈদ পড়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়। পরে ২ জুন তিনি জানান, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষা ১৪ মার্চ শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুরুতে পরীক্ষা এগিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে দেখা গেছে, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সিলেবাস শেষ করলেও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রিভিউয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাচ্ছিল না। এই রিভিউ প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, রমজানের পর পরীক্ষা নিলে আবার দীর্ঘ বিলম্ব হয়ে যেত। তাই সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রমজানের পরই পরীক্ষা আয়োজনের। তবে জাতীয় পর্যায়ে বড় কোনো পরিস্থিতি না হলে নতুন করে আর সময় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া।