প্রকাশিত : ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৩৬ (মঙ্গলবার)
পদ্মা সেতুতে বাস দুর্ঘটনায় ৫০ মিটার রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত, মেরামতে ব্যয় ২ লাখ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় সেতুর পূর্ব পাশের রেলিংয়ের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেতুর মূল অবকাঠামোতে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত রেলিং ও সড়কের দাগ মেরামতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। মেরামতের কাজ শেষ করতে ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা সেতু পার হয়ে মাওয়া প্রান্ত দিয়ে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। বাসটি প্রথমে সেতুর এক পাশের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। পরে ঘুরে গিয়ে অপর পাশের রেলিংয়েও সজোরে আঘাত করে এবং একপর্যায়ে উল্টে যায়। এতে বাসটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সেতুর রেলিংয়ের বেশ কিছু অংশ ভেঙে যায়।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ বলেন, দুর্ঘটনার সময় বাসটি সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম-দুই পাশের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। পশ্চিম পাশের রেলিংয়ে তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে পূর্ব পাশের রেলিংয়ের ব্যারিয়ারের ওপরের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি জানান, সেতুর সড়কেও কিছু দাগ পড়েছে। তবে সেগুলো গুরুতর নয়। রেলিং ও সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতে আনুমানিক দেড় থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে।

দুর্ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সোমবার বেলা ১টা ১৫ মিনিটের দিকে বাসটি পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে পৌঁছায়। সেতু থেকে নামার সময় বাসটি অন্য একটি বাসকে অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এ সময় বাসটির গতি বেশি ছিল।

একপর্যায়ে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি প্রথমে ডান দিকে, পরে বাঁ দিকে যেতে থাকে। এরপর বাসটি ঢালের ওপর লম্বালম্বিভাবে পিছলে গিয়ে সেতুর দুই পাশের রেলিংয়ে পরপর ধাক্কা দেয়। এতে রেলিংয়ের বেশ কিছু অংশ ভেঙে পড়ে এবং পরে বাসটি উল্টে যায়।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ বলেন, সেতুর ওপর যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে চালকদের সতর্ক করতে বিভিন্ন দূরত্বে বিলবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। তবে অনেক চালক নির্ধারিত গতিসীমা মানছেন না।

সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় সেতুর ওপর চলাচলকারী কিছু যানবাহনের গতি ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যায়। বেলা ১টা ৩৭ মিনিটের দিকে খবর পাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে তারা। বাসের ভেতরে থাকা আটজন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনার পর প্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট পদ্মা সেতুর ওপর যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে সেতুর এক পাশ দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিস, সেতু কর্তৃপক্ষের টহল গাড়ি ও রেকারের সহায়তায় বেলা আড়াইটার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেতুতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর বাসটি পদ্মা উত্তর থানায় রাখা হয়েছে। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় গাড়িসহ দুটি টহল দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে। প্রতিটি দলে তিনজন করে সদস্য রয়েছেন। তাঁরা সেতুর ওপর যানবাহন চলাচল পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কোনো গাড়ি বিকল হলে প্রাথমিক মেরামত এবং দুর্ঘটনায় আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসায় সহায়তা করেন।

সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, পুরো সেতুতে প্রায় ৪০০ মিটার পরপর ১৬টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সেতুর ওপরের যান চলাচল ও বিভিন্ন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্ধারিত গতিসীমা না মানার প্রবণতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সেতু থেকে নামার সময় অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদের ভাষ্য, দুর্ঘটনাটি বড় ধরনের হতে পারত। তবে বাসের যাত্রী এবং পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রেলিং দ্রুত মেরামত করা হবে, যাতে সেতুর নিরাপত্তা ও যান চলাচলে কোনো ধরনের সমস্যা না থাকে।