প্রকাশিত : ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০০ (মঙ্গলবার)
জগন্নাথপুরে তালাবদ্ধ ঘরে কম্বলে মোড়ানো বৃদ্ধার লাশ

প্রতীকী ছবি

ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। ভেতর থেকে আসছিল তীব্র দুর্গন্ধ। প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।

পরে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে খাটের ওপর কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেল ৬৫ বছর বয়সী আছিয়া বেগমের অর্ধগলিত লাশ।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ইনাতনগর এলাকায় সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। আছিয়া বেগম ওই এলাকার মৃত খালিক মিয়ার স্ত্রী। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর বাড়িতে একাই থাকতেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ শহরে যাওয়ার পর স্বজনদের সঙ্গে আর তাঁর যোগাযোগ হয়নি।

কয়েক দিন পর সোমবার রাতে প্রতিবেশীরা বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ঘর থেকে দুর্গন্ধ পান। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের তালা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে। খাটের ওপর কম্বল দিয়ে মোড়ানো ছিল মরদেহটি।

শরীরের কিছু অংশ ততক্ষণে পচে গিয়েছিল। কিন্তু কীভাবে ওই ঘরে পৌঁছালেন আছিয়া বেগম? আর কে বা কারা বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে গেল; এসব প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

পরিবারের দাবি, চিকিৎসার জন্য আছিয়া বেগমের কাছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিল। সেই টাকা ছিনিয়ে নিতেই তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা স্বজনদের।

আছিয়া বেগমের মেয়ে কল্পনা বেগম জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে মায়ের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। তাঁর স্বামী দিলশাদ মিয়ার দাবি, শাশুড়ির কাছে চিকিৎসার টাকা থাকার বিষয়টি কেউ জানত এবং সেই টাকার জন্যই তাঁকে হত্যা করে ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখা হতে পারে।

তবে পরিবারের এই ধারণার পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশও হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। বরং তদন্তে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তালাবদ্ধ ঘরের রহস্য।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ঘরটির একটি মাত্র দরজা রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।