প্রকাশিত : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:২৬ (বৃহস্পতিবার)
সিলেটে মন্ত্রীর বাসায় বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধন: দাওয়াত পাননি শীর্ষ নেতারা!

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট মহানগর বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নিজস্ব কার্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে।

গেলো মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরের কাজির বাজার এলাকায় সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাসভবনে এই কার্যালয়টির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে কার্যালয়টির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তবে দলের এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে জেলা ও মহানগরের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতার অনুপস্থিতি এবং তাদের দাওয়াত না দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে দলের ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক গুঞ্জন।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের সূত্র জানায়, আগামী সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমানে মহানগর বিএনপির সভাপতি নাছিম হোসেইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে তৎপর রয়েছেন।

তবে তাদের বাইরেও মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা হেভিওয়েট নেতারা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রাত্য ছিলেন। বিশেষ করে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী দাওয়াত পাননি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ‘মহানগর কার্যালয়ের উদ্বোধনী পর্বে আমাকে দাওয়াত দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেননি বর্তমান দায়িত্বশীলরা। তবে এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। দুঃসময়ে দলের সঙ্গে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।’

অন্যদিকে, আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী দাওয়াত না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিলেটে বিএনপি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও দলের অভ্যন্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে এক ধরনের ‘ঠান্ডা লড়াই’ ও মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব বিরাজ করছে। বিশেষ করে আসন্ন সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই উপবলয়গুলোর মধ্যে কোণঠাসা করার রাজনীতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগে জেলা ও মহানগরের যেকোনো বড় কর্মসূচিতে পারস্পরিক আমন্ত্রণের রেওয়াজ থাকলেও এবারের ঘটনায় সেই ঐক্যে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেক নেতাকর্মী।

তবে বিভেদ বা গ্রুপিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নাছিম হোসেইন। তিনি জানান, যেহেতু এটি মহানগরের কার্যালয়, তাই শুধুমাত্র মহানগর ও ওয়ার্ড কমিটির সদস্যদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। অন্য কাউকে পাশ কাটানোর কোনো উদ্দেশ্য এখানে ছিল না।